কাশফুল মাহযুবের প্রথম বাংলা অনুবাদ ও কাজী মোতাহার হোসেন

উপমহাদেশে তো বটেই, মুসলিম বিশ্বে সুফি টেক্সট হিসেবে যে-সকল কিতাব পরিচিত; যে-সকল কিতাব তাসাউফের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে সারাবিশ্বে সমাদৃত তন্মধ্যে অন্যতম কাশফুল মাহযুব। হযরত দাতাগঞ্জে বখশ লাহোরী, যিনি দশম শতাব্দীতে লাহোর আগমন করেন— বর্তমানে যা পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী। আগমনের সময় ও প্রভাবের কারণে তাঁকে উপমহাদেশের সুফিদের পথিকৃৎ বললে ভুল হবে না। তৎকালীন গযনী শহরের আবু সাঈদ নামক ব্যক্তি হযরত দাতাগঞ্জে বখশ লাহোরীর নিকট ০৭টি বিষয়ে জানতে চান।
• তাসাউফ বিষয়ে গবেষণা
• তাসাউফে বিভিন্ন স্তরের অবস্থা
• তাসাউফের বিভিন্ন মাযহাব ও তার বিবরণ
• তাসাউফের রহস্য বর্ণনা
• আল্লাহর প্রতি মহব্বত ও তা কীভাবে অন্তরে স্থায়ী হয়
• মানুষের জ্ঞান কেন আল্লাহর অস্তিত্বের রহস্য পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না
• আল্লাহ থেকে মানুষ কেন মুখ ফিরিয়ে রাখে এবং আত্মা কেন শান্তি লাভ করে।
এ বিষয়গুলো আমলে নিয়ে হযরত দাতাগঞ্জে বখশ লাহোরী রচনা করেছেন তাঁর সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কিতাব— কাশফুল মাহযুব।
এই কিতাব সম্পর্কে হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া বলেছেন: “কোনো ব্যক্তি যদি পীর/মুর্শিদের সন্ধান না পান, তাহলে কাশফুল মাহযুব তার জন্য যথেষ্ট হবে।”
বাংলায় কাশফুল মাহযুব 
আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষায় কাশফুল মাহযুবের ব্যবহার সুপ্রাচীন। কিন্তু বাংলা অঞ্চলে এই কিতাবের আগমন বেশিদিন আগের কথা নয়। প্রাক-ঔপনিবেশিক আমলে উর্দু ও ফারসি ভাষার বিভিন্ন সুফিতাত্ত্বিক উপাখ্যানের অনুবাদ হয়েছে। যেমন: পারস্যের বিখ্যাত সুফি ব্যক্তিত্ব ও কবি আবদুর রহমান জামির “লাইলি মজনু” অনুবাদ করেছেন দৌলত উজির বাহরাম খান; মালিক মোহাম্মদ জায়সীর “পদুমাবত” অনুবাদ করেছেন আলাওল; ইজ্জতুল্লাহ রচিত ‘তাজুলমুলুক গুল-ই বকাওলী’ অবলম্বনে নওয়াজিস খান এবং মুহম্মদ মুকীম রচনা করেন ‘গুলে বকাওলী’। কিন্তু রিসালাতুশ কুশায়রিয়া, আওয়ারিফুল মাআরিফ, কাশফুল মাহযুবের মতো কিতাবের অনুবাদ হয়নি। হয়নি সঙ্গত কারণেই; এগুলো কথা বা কাব্যকাহিনী নয়। কুরআন, হাদীস ও অন্যান্য উৎস থেকে রচিত তাসাউফের উচ্চস্তরের কিতাব। ফলে, এই কিতাবের অনুবাদ প্রাক-ঔপনিবেশিক বাংলা ভাষার যে কাঠামো তার সঙ্গে কতটুকু খাপ খেতো; অনুবাদক মূল কিতাবকে কতটুকু সুরক্ষিত রাখতে পারতেন; সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পর, তৎকালীন মুসলমান সমাজে এর সার্বিক চাহিদা কতটুকু ছিল— এই প্রশ্নগুলো বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।
ঔপনিবেশিক আমলের শেষ শতকে, বাংলা ভাষার ‘আধুনিক’ কাঠামো ও রীতিতে কুরআন ও হাদীসের সরাসরি অনুবাদ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় কাশফুল মাহযুবের বাংলা অনুবাদ হতে হতে চলে আসে পাকিস্তান। পাকিস্তান আমলের শেষ দশকে, ১৯৬৮ সালে সর্বপ্রথম কাশফুল মাহযুবের বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়। অনুবাদ করেন শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ও অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন। ব‌ইটি কাশফুল মাহযুবের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ নয়, আংশিক মাত্র। ইংরেজি ভাষায় ব‌ইটির মূল প্রণেতা তৎকালীন পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ শায়খ আবদুর রশীদ, যিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। ভূমিকায় তৎকালীন পাকিস্তানের সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকর্তা ইশফাক আহমদ লিখেছেন: “আঞ্চলিক উন্নয়নমূলক সহযোগিতা জোট (তেহরান)-এর উৎকর্ষ-সংঘ যেসব কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন, তারমধ্যে একটা হচ্ছে, ইরান, পাকিস্তান ও তুর্কীর যেসব মহাপুরুষ নিজেদের পার্থিব ও দিব্য জ্ঞান দ্বারা সাধারণভাবে জগদ্বাসীর ও বিশেষভাবে সেই অঞ্চলবাসীর মনের প্রেরণার সঞ্চার করেছেন, তাঁদের চরিত কথা সম্বলিত পৃথক পৃথক পুস্তিকা প্রকাশ করা। এঁদের মধ্যে বিশিষ্ট বিদ্বজ্জন, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক ও দিব্যজ্ঞানীরা থাকবেন। এই উদ্দেশ্যে পাকিস্তান প্রথম আলোচ্য বিষয় হিসাবে দাতা গঞ্জ বখশ নামে পরিচিত হজরত শৈখ আলী অল হুজবীরীর জীবন চরিতকেই নির্বাচন করেছেন, পরে এই সিরিজে একে একে আরও অনেক ক্ষণজন্মা খ্যাতনামা মহাপুরুষের জীবন চরিত প্রকাশিত হবে।”
এই কথা থেকে ব‌ই রচনা ও অনুবাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। তেহরান অর্থাৎ ইরানের রাজধানীতে অবস্থিত ‘আঞ্চলিক উন্নয়নমূলক সহযোগিতা জোট’ (ধারণা করি, নামটি বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে, মূলে ইংরেজি) নামক সংস্থা একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যার মূল কর্মসূচি ‘ইরান, পাকিস্তান ও তুর্কীর যেসব মহাপুরুষ নিজেদের পার্থিব ও দিব্য জ্ঞান দ্বারা সাধারণভাবে জগদ্বাসীর ও বিশেষভাবে সেই অঞ্চলবাসীর মনের প্রেরণার সঞ্চার করেছেন’ তাঁদের জীবনী প্রকাশ ও প্রচার করা। এই উদ্যোগের প্রথম বিষয় হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে— হযরত দাতাগঞ্জে বখশ লাহোরী। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং পাকিস্তানের সমাজ ও সংস্কৃতির দিক থেকে এটি যথার্থই।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, তেহরানে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক জোট— ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্ক— যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, কাজী মোতাহার হোসেন কেন সেখানে যুক্ত হলেন? কাজী মোতাহার হোসেন পরিচিত একজন ‘সেক্যুলার মুসলমান’ হিসেবে; ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কিংবা প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ-দের তুলনায়। তাঁর এই ‘সেক্যুলার’ পরিচিতি বর্তমান সময়ে প্রচলিত ‘সেক্যুলার’ অর্থে নয়, বরং পুরোপুরি উল্টো অর্থে। অর্থাৎ ‘ধর্মহীনতা’ অর্থে তিনি মোটেও সেক্যুলার ছিলেন না, বরং শরীয়তের আক্ষরিক অনুবাদ ও প্রয়োগ— যাকে মোল্লা সমাজ বলপ্রয়োগের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহার করে থাকে, আরো পরিষ্কার করে বললে, ইসলামের বিধিবিধানকে স্থান, কাল ও পাত্রের ঊর্ধ্বে রেখে একটি জড়বস্তু হিসেবে কল্পনা ও প্রয়োগের বিরুদ্ধে ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন এবং এই অর্থেই তিনি ‘সেক্যুলার’। উল্লেখ্য, বিশ শতকে এই ‘সেক্যুলার’র বাংলা অনুবাদ করা হতো ‘মানবতাবাদী’। এই পয়েন্ট থেকে তাসাউফ ও সুফিধারার সঙ্গে যুক্ততা ও সখ্যতা মোটেও বিচিত্র ব্যাপার নয়, বরং স্বাভাবিক বিষয়। ইসলামের বিধিবিধানকে স্থান, কাল ও পাত্রের ঊর্ধ্বে রেখে একটি জড়বস্তু হিসেবে প্রয়োগের বিপরীতে সুফিরা ব্যক্তির ব্যক্তিগত, সামাজিক ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে শরীয়তের বিধিমালা পালনের পক্ষপাতী। ধর্মের বিধিবিধানের পাশাপাশি ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বিষয়কে গুরুত্ব দেয়ার যে প্রবণতা তাহাউফের/সুফিদের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য, কাজী মোতাহার হোসেনের মতো ‘সেক্যুলার/মানবতাবাদী’ ব্যক্তিগণ পছন্দ/সাবস্ক্রাইব করে থাকেন। সুতরাং, হযরত দাতাগঞ্জে বখশ লাহোরীর জীবনীগ্রন্থ বাংলা অনুবাদ করা কাজী মোতাহার হোসেনের জন্য বিচিত্র ব্যাপার নয়।
ব‌ইটির প্রকাশনা তথ্য
আর.সি.ডি. আঞ্চলিক সংস্কৃতি-ভবন প্রকাশন-৪
হযরত দাতা গঞ্জ বখ্‌শ
শায়খ আবদুর রশীদ প্রণীত
ড. কাজী মোতাহার হোসেন অনুদিত
কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড
[তেহরানস্থ আর, সি. ডি. আঞ্চলিক সংস্কৃতি-ভবনের শাখা]
১০, গ্রীন রোড, ঢাকা (ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮)
ইংরেজি ভাষায় ব‌ইটির মূল প্রণেতা আব‌দুর রশীদ ব‌ইটি তিনটি অধ্যায়ে সাজিয়েছেন—
• সুফিবাদ ও এর বিভিন্ন শাখার উদ্ভব
• হযরত দাতাগঞ্জে বখশ লাহোরীর জীবনী
• কাশফুল মাহযুব ও তার শিক্ষা
মূল লেখক ব‌ইটি রচনায় প্রফেসর নিকলসন কর্তৃক কাশফুল মাহযুবের ইংরেজি অনুবাদের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “মূল ফারসী পুস্তক সহজে পাওয়া যায় না আর উর্দু অনুবাদেও বহু ভুল-চুক রয়েছে। রাশিয়া থেকে যে মূল ফার্সী পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে তার সঙ্গে নিকলসনের অনুবাদ মিলিয়ে দেখেছি।”
ব‌ইটিতে কাশফুল মাহযুব নিয়ে আলোচনা হয়েছে তৃতীয় অধ্যায়ে। এবং এটিই বাংলা ভাষায় কাশফুল মাহযুব নিয়ে প্রথম আলোচনা, যার কৃতিত্ব কাজী মোতাহার হোসেনের। প্রথমেই আলোচনা হয়েছে কাশফুল মাহযুবের ব্যাপারে ঐতিহাসিক স্বীকৃত ব্যক্তিবর্গের মতামত নিয়ে। যেমন: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের বড় ছেলে, যিনি আধ্যাত্মিক ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসে পরিচিত, দারা শুকোহ, তিনি কাশফুল মাহযুব সম্বন্ধে বলেছেন: কাশফুল মাহযুব নিঃসন্দেহে সুফিতত্ত্বের একটি সম্পূর্ণ দিশারী কিতাব।
কাজী মোতাহার হোসেন অনুদিত বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা।
বলাই বাহুল্য, এখানে কাশফুল মাহযুবের পূর্ণাঙ্গ উল্লেখ নেই। পূর্ণাঙ্গ না হলেও একে কাশফুল মাহযুবের একটি উল্লেখযোগ্য সারাংশ বলা যায়। হযরত দাতাগঞ্জে বখশ লাহোরী কাশফুল মাহযুবকে ২৫টি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন। এই ব‌ইতে প্রতিটি অধ্যায়ের আলাদা আলাদা সারাংশ যুক্ত করা হয়েছে, যে-কারণে এই অধ্যায়কে কাশফুল মাহযুবের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বললেও অত্যুক্তি হবে না। যেমন: সুফিবাদ নামক তৃতীয় অধ্যায়ে লিখেছেন: “আলী হুজবীরী প্রথমত ‘সুফী’ শব্দের ব্যুৎপত্তি আলোচনা করেন। তারপর আপসোস করে বলেন, এ যুগে “সূফীবাদ এবং এই মতের অনুসারীদের কাছ থেকে আল্লাহ বেশীর ভাগ লোককেই অন্তরাল করে রেখেছেন; আর তাদের হৃদয় থেকে সূফীবাদের অপার রহস্যকে গোপন করে রেখেছেন। বিদ্রূপকারী (আহলি হযল) ও ধর্ম শাস্ত্রবিদগণ (উলামা-রা) সুফীবাদ আসলে কি বস্তু তা বুঝবার চেষ্টা না করেই একে ঘৃণা করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।” তাঁর মতে, সত্যই যাঁরা সূফী-পথে আছেন, তাঁদের ইমাম হচ্ছেন খলীফা হজরত আবুবকর সিদ্দীক। তাঁর মতে যে অপবিত্রতা (কদর) থেকে মুক্ত, তাকেই বলা যায় সূফী। একজন শৈখের নাম উল্লেখ না করেই তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন: প্রেম দ্বারা যেজন পবিত্রিত তিনিই সত্যিকার শুদ্ধ প্রকৃতি, আর যিনি আর সব ত্যাগ করে প্রিয়তমের (আল্লাহর) ভিতরে ডুবে রয়েছেন, তিনিই সূফী। আবুল হাসান নূরীর মতে, যাবতীয় আত্ম-সুখ বা সম্ভোগ ত্যাগ করাই হল সূফীত্ব।”
এভাবে কাশফুল মাহযুবের প্রতিটি অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ যুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু মূল ইংরেজি ব‌ইটি পাওয়া যায়নি, তাই মিলিয়ে বলা যাচ্ছে না অনুবাদের হালহকিকত! তবে কাজী মোতাহার হোসেন নিজস্ব লেখ্যরীতি— সংস্কৃতবহুল বাংলা থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক অনুবাদ করেছেন। তাসাউফের বহু পরিভাষার বাংলা না করে হুবহু রেখেছেন। এতে অনুবাদ আরও প্রাঞ্জল ও পাঠোপযোগী হয়েছে। যেমন: “তাঁর আধ্যাত্মিক পীর ছিলেন আবুল ফজল মুহম্মদ বিন অল-হসন অল-খুত্তালী। ইনি তফসীর ও রিওয়ায়েতে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন, এবং জুনাইদ-পন্থী সুফী ছিলেন।” এখানে পীর শব্দের বাংলা ‘পথপ্রদর্শক’, তফসীর শব্দের বাংলা ‘ব্যাখ্যা’, রিওয়ায়েত শব্দের বাংলা ‘বিবরণ’ লিখলে পাঠক এই লাইনের অর্থ বুঝতে হিমশিম খেতেন; বোধগম্য না হ‌ওয়াই স্বাভাবিক হতো। কিন্তু এই পরিভাষাগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে অনুবাদকে পাঠকের জন্য উপযুক্ত করে তোলা হয়েছে। সুফিশাস্ত্রের পরিভাষা ব্যবহারের ফলে যারা সুফি টেক্সটে আগ্রহী তাদের জন্য কাজী মোতাহার হোসেনের এই অনুবাদ সুখপাঠ্য হবেই, সন্দেহ নেই।
কাশফুল মাহযুব সুফিশাস্ত্রের অন্যতম প্রধান মৌলিক কিতাব। বাংলায় এর প্রথম অনুবাদক কাজী মোতাহার হোসেন। অথচ, কাজী মোতাহার হোসেনের এই অনুবাদ এখনো লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়ে গেছে। সুফিধারার পাঠকসমাজ তো বটেই, অনেক গবেষকও জানেন না এ বিষয়ে। কাজী মোতাহার হোসেন রচনাবলীর সম্পাদক আবুল আহসান চৌধুরী মন্তব্য করেছেন: “কাজী মোতাহার হোসেন-সম্পর্কিত আলোচনায় ইংরেজি থেকে অনুদিত তাঁর এই ব‌ইটির খবর এ-পর্যন্ত কেউই পরিবেশন করেননি।” চৌধুরী সাহেব এই মন্তব্য করেছেন ১৯৯২ সালে; আজ ২০২৬ সালেও এই মন্তব্য সত্য। কাজী মোতাহার হোসেন সম্বন্ধে কোনো আলোচনাতেই এ বিষয়ের উপস্থিতি পাওয়া যায় না।
আলোচনা হোক বা না-হোক, বাংলা ভাষায় কাশফুল মাহযুব অনুবাদের পথিকৃৎ হিসেবে কাজী মোতাহার হোসেনের নাম অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।