হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ.):  বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষার পথিকৃৎ

 

প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ রাজধানী সোনারগাঁও-এ ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকে আনুমানিক ১২৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ.) আগমন করেন এবং ধর্ম প্রচার ও শিক্ষাদানে আত্মনিয়োগ করেন। সেখানে তিনি তার শিষ্যদের জন্য একটি খানকাহ্ (আস্তানা) ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। ক্রমে এই আস্তানা এবং মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ মানুষ ও শিক্ষার্থীর সমাগম হতে থাকে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়[1]

 

জন্ম ও পরিচয়

হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ.) কত সালে জন্মগ্রহণ করেছেন তার সঠিক তথ্য এখনো কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে তিনি বুখারার এক উচ্চশিক্ষিত সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতা-পিতার পরিচয়ও ইতিহাসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত নেই।

তবে ইতিহাসবেত্তাগণের বরাত দিয়ে বলা যায়, ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর লক্ষ্যে তাঁর পূর্বসুরীগণ তৎকালীন মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল কেন্দ্রস্থল বুখারায় হিজরত করেন। আরবদেশে ইসলামী পুনর্জাগরণের ফলে যে সকল মুসলিম পরিবার বুখারায় এসে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের মধ্যে হযরত আবু তাওয়ামাহ’র পরিবার অন্যতম। ইসলামের প্রচার এবং প্রসারে নিজেদেরকে উজাড় করে দেওয়াই ছিল এই সকল পরিবারের প্রধান লক্ষ্য।

 

শিক্ষা জীবন

হযরত আবু তাওয়ামাহ (রহ.) বাল্যকাল থেকেই অসাধারণ মেধাশক্তির অধিকারী ছিলেন। পাশাপাশি জ্ঞানার্জনের প্রতি বিশেষ রকমের আগ্রহও ছিল লক্ষ্য করার মতো। আগেই বলা হয়েছে, বুখারা তখনকার সময়ে জ্ঞানচর্চার একটি সমৃদ্ধ শহর হিসেবে সুপরিচিত ছিল। আর হযরতের পরিবার বুখারায় অবস্থান করার সুবাদে তাঁর শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি সেই বুখারাতেই হয়। সেখানে জ্ঞানার্জনের সকল সুযোগ-সুবিধা থাকায় তিনি নির্বিঘ্নে পড়ালেখা চালিয়ে যান এবং খুব কম সময়ের মধ্যে সফলভাবে সমাপ্ত করতে সক্ষম হন।

তিনি যখন জ্ঞানার্জন করছিলেন, তার আরো অনেক আগে থেকেই বুখারায় ইমাম বুখারীর গুণী শিষ্যবৃন্দ হাদিস-শাস্ত্রের উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষাদান করছিলেন। পরবর্তীতে তিনিও এই সমস্ত গুণী শিক্ষকদের সান্নিধ্যে এসে ইলমুল হাদিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রে নিজের জ্ঞানের পরিধিকে আরো সমৃদ্ধ করতে সমর্থ হন। তাঁর জ্ঞান অর্জনের ক্ষুধা এতটাই প্রবল ছিল যে, তিনি বুখারা থেকে পরবর্তীকালে পারস্যের খোরাসানেও সফর করেছিলেন এবং সেখানকার পণ্ডিতদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। আর এভাবেই তিনি জ্ঞানার্জনের ক্ষুধা নিবারণ করেছিলেন। উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করার পর তিনি রাজকর্তার পদ পেয়েছিলেন, কিন্তু গ্রহণ করেননি। জ্ঞানের সাধনা করে নিজেকে আরো উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার বিলাসিতার কাছে এই রাজকর্তার পদ যে অতি তুচ্ছ ছিল, তিনি তা প্রমাণ করতে সমর্থ হন।

 

দিল্লিতে আগমন

হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ যখন ভারববর্ষে আগমন করেন তখন সেখানে অধিকাংশ মানুষ দেবদেবীর উপাসনা করত। এই মানুষগুলোকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসার তীব্র বাসনা থেকেই তিনি শিক্ষকতাকে নিজের পেশা হিসেবে পছন্দ করেন। তাদেরকে ইসলামের আলোয় আলোকিত এবং তাওহিদ-রেসালাতের রঙে রাঙিয়ে দিতে তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর।

এখানে এসে তিনি পুনরায় ইসলামী শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনে মনোনিবেশ করেন এবং শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চতর শিক্ষাদান ও যথাযথভাবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। দিল্লিতে আগমন করে তিনি একটি মসজিদে উঠেন এবং সেখানকার মানুষের সহযোগিতায় একটি মাদ্রাসা ও খানকাহ্ নির্মাণ করেন। ছাত্র, আলেম ও গুণীজনদের জন্য খানকাটি ছিল বৈঠকখানা। দেশ-বিদেশের আলেম, দরবেশ, সাধক, বাদশাহ ও সুলতানগণ এই খানকায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও জ্ঞান অর্জন করতেন। তাছাড়া, তাঁর এই মাদ্রাসায় ইসলামী শিক্ষাদানের পাশাপাশি সমকালীন বিষয়েও শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ সমন্বয় করার চেষ্টা করা হতো। এই অভিনব সব শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে ক্রমেই তাঁর সুনাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আরব, ইরাক ও ইরানের মতো দূরদূরান্ত থেকেও অংসখ্য শিক্ষার্থী তার কাছে আসতে থাকেন।

ধারণা করা হয়, আনুমানিক ১২৬০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দিল্লিতে আগমন করেন। সে-সময় দিল্লির সুলতান ছিলেন গিয়াস উদ্দীন বলবন। সুলতান স্বভাবতই ধার্মিক মুসলমান ছিলেন এবং জ্ঞানী-গুণী, বিদ্বান, আলেম ও বুযুর্গ ব্যক্তিদেরকে বিশেষ ভক্তি ও শ্রদ্ধা করতেন। তিনি হযরতের কাজকর্ম দেখে খুবই সন্তুষ্ট হন এবং মাদ্রাসা ও খানকার জন্য মাসেহারা বরাদ্দ করেন।

পর্যায়ক্রমে সুলতান হযরত আবু তাওয়ামার প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং তাঁর অনুরাগী হয়ে ওঠেন। সেজন্য তিনি মাঝেমধ্যে তাঁর খানকাহ্ ও মাদ্রাসায় যেতেন এবং সাধারণ ছাত্রদের সাথে দরসে অংশগ্রহণ করতেন। আর এভাবেই সুলতান আর হযরতের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে।[2]

হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ.) তাঁর আধ্যাত্মিক জ্ঞানের উৎকর্ষ ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন এবং তাদেরকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেন। এ প্রসঙ্গে ‘মানকিবুল আসফিয়া’ নামক সমসাময়িক একটি গ্রন্থে উল্লেখ আছে, সে-সময় মাওলানা শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ আধ্যাত্মিক জ্ঞান, পাণ্ডিত্য ও পূত চরিত্রের সুখ্যাতি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলগুলোতে এবং আরব-ইরান-সহ অন্যান্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের অধিকাংশ শাখায় পারদর্শী ছিলেন, সেখানে রসায়ন, প্রকৃতিবিজ্ঞান এবং যাদুবিদ্যার মতো জ্ঞানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিদ্বান ব্যক্তিরা ধর্ম ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতেন এবং সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকলে তাঁর প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন।[3]

 

দিল্লি ত্যাগ ও সোনারগাঁও-এ আগমন

একদিকে হযরতের জ্ঞানের প্রখরতা ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা অন্যদিকে সুলতানের সাথে সখ্যতা—এই দুইটি বিষয়ের সংযোগ সবার মনে প্রশান্তি জাগালেও রাজদরবারের কিছু আমির-ওমারার, অর্থাৎ আমলাদের মনকে ভারী করে তুলেছিল। তারা সুলতানের সাথে হযরতের এই হৃদ্যতাকে সহজভাবে নিতে পারেনি। পরবর্তীতে তারা বিভিন্নভাবে সুলতানকে ভুল বুঝানোর চেষ্টা করলো—তিনি যেভাবে জনপ্রিয় হচ্ছেন তাতে সুলতান সিংহাসনচ্যুত হতে পারেন এবং তিনি কুরআন-সুন্নাহর অপব্যাখ্যা করছেন, এতে সাধারণ মানুষ বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে। তাই সুলতানের উচিত হবে না তাঁর খানকায় যাতায়াত করা, তাতে বরং সুলতানের সম্মানের হানি ঘটবে। অতঃপর তারা আবু তাওয়ামাহকে রাজদরবারে ডেকে পাঠানোর পরামর্শ দিলেন।

সুলতান বলবন হযরতকে দরবারে উপস্থিত হওয়ার জন্য চিঠি প্রেরণ করেন, কিন্তু তিনি রাজি হলেন না। তিনি চিঠির জবাব দিলেন এভাবে,

“কুরআন-হাদিসের উপর সকল মানুষের সমান অধিকার। রাজদরবারে তার আলোচনা করা ঠিক হবে না। কারণ সেখানে সকল মানুষের প্রবেশাধিকার নেই। যেখানে সকল মানুষ অবাধে সমবেত হতে পারে, সেখানেই কুরআন-হাদিসের আলোচনা হওয়া উচিত”।[4]

এবার এই পত্রের ভুল ব্যাখ্যা করে চাটুকার আমলারা বললো, আবু তাওয়ামাহ সুলতানের আদেশ অমান্য করে রাজদ্রোহিতার অপরাধ করেছেন। সুতরাং দিল্লি থেকে তাকে বহিষ্কার করা উচিত। এমন নানাবিধ কুপ্ররোচনার মাধ্যমে তারা সুলতানকে বাধ্য করেন, হযরতকে তৎকালীন বাংলার সমৃদ্ধ শহর সোনারগাঁ-তে চলে যাবার নির্দেশ প্রদান করতে।

সুলতান তার আমলাদের কুমন্ত্রণায় এতটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন যে, তিনি ধরেই নিয়েছিলেন হযরতের এই অভাবনীয় গ্রহণযোগ্যতা একসময় তাকে সিংহাসনচ্যুত করে দিতে পারে। তাই তিনি হযরতকে দিল্লি ত্যাগ করে সোনারগাঁওয়ে চলে যাওয়ার আদেশ দেন। এ প্রসঙ্গে শাহ শুআয়ব বলেছেন, হযরতের প্রতি লোকের অনুরাগ দেখে সুলতান আশঙ্কা করেন যে, হযরত হয়তো তার রাজ্য কেড়ে নিতে পারেন। সেজন্য সুলতান কৌশলে হযরতকে সোনারগাঁওয়ে যেতে রাজি করান। হযরত সুলতানের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছিলেন, তাই তিনি সুলতানের আদেশ মান্য করা সমীচীন মনে করে সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। সেসময় বাংলা দিল্লি সুলতানের অধীনে ছিল।

হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ.) দিল্লি ত্যাগের সময় পথিমধ্যে সমবেত কয়েক হাজার ভক্ত ও অনুরাগীদেরকে নিয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন এবং নামাজান্তে তিনি একটি ভাষণ দেন। যে ভাষণে তিনি সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের প্রশংসা করেন এবং তিনি যে খারাপ লোকের প্ররোচনায় পড়ে হযরতকে দিল্লি ত্যাগের আদেশ জারি করেছেন, সেটিও উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি সুলতানের মঙ্গল কামনা করে দোয়াও করেছেন। এ সম্পর্কে মফিজ উদ্দীন আহমদ উল্লেখ করেন, “সুলতান গিয়াসউদ্দিন একজন মহৎ ও গুণী মানুষ। তিনি মন্দ লোকের কথায় প্ররোচিত হয়ে আমাকে ভুল বুঝেছেন। রাজদরবারে হামেশাই এমন কিছু মন্দলোকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যারা ন্যায়পরায়ণ শাসকদেরকে ভুল পরামর্শ দিয়ে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করতে সচেষ্ট থাকে। এতে আমি দুঃখিত হইনি। দিল্লিতে আমার কাজ শেষ হয়েছে। তাই রাব্বুল আলামিন আমাকে আরো বড় এবং মহৎ কাজ করার জন্য আরো ভালো জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। আমি দোয়া করি, আল্লাহ সুলতানকে সহিহ-সালামতে রাখুন।”

এদিকে হযরতের দিল্লি ছেড়ে সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবার সংবাদ পেয়ে স্বয়ং সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ঘোড়ায় চড়ে হযরতের অনুসরণ করেছিলেন। এরপর তিনি নিজ কানে হযরতের সেই ভাষণ শ্রবণ করে অনুতপ্ত হন এবং হযরতকে আবার দিল্লি ফিরে যেতে অনুরোধ জানান। কিন্তু হযরত আবু তাওয়ামাহ (রহ.) সম্মত হলেন না। এবার সুলতান হযরতকে কিছু অর্থ-সম্পদ ও শাহী উপঢৌকন গ্রহণ করার অনুরোধ করেন। হযরত এবারও এই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ধন-দৌলত ও শাহী শান-শওকত ধর্মীয় জ্ঞান চর্চার উপযুক্ত উপকরণ নয়। কখনো যদি আমার তেমন কিছুর প্রয়োজন হয়, তাহলে আমি নিজে আপনার কাছে চেয়ে পাঠাবো। দোয়া করি, আল্লাহ আপনাকে মুসলমানদের খেদমত করার তাওফিক দান করুন।

বিহারের মানারে কিছুকাল অবস্থান
হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ.) সোনারগাঁও আসার পথে বিহারের ‘মানার’ নামক একটি স্থানে কিছুদিন অবস্থান করেন। তিনি যে বাড়িতে মেহমান হিসেবে অবস্থান করেন, সেখানে তিনি খুঁজে পান শায়খ শরফুদ্দীন ইয়াহ্ইয়া মানেরীকে। যিনি পরবর্তীকালে হযরতের সোহবতে থেকে নিজেকে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন এবং জগদ্বিখ্যাত পণ্ডিত হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ.) মূলত শায়খ শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী’র পিতার আতিথেয়তা গ্রহণ করতে গিয়েই মানারে কিছুদিন অবস্থান করেন। হযরত এখানে থাকাকালীন সময়েও ইসলামের প্রচার-প্রসারের দিকে মনোযোগী ছিলেন।

হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ যখন মানারে অবস্থান করেন, তখন শায়খ শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন এবং ধর্মীয় শিক্ষায় বুৎপত্তি অর্জন করেছেন। শায়খ ইয়াহইয়া মানেরী শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ’র জ্ঞানের প্রখরতা দেখে বিমোহিত হন এবং এমন একজন মহান জ্ঞানীর সান্নিধ্যে থেকে ধর্ম-বিজ্ঞান চর্চা করার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন। হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ, শায়খ শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী’র আদব এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি এমন তীব্র ঝোঁক দেখে তাঁকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। অতএব, পিতামাতার অনুমতিক্রমে শায়খ শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী, হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ’র শিষ্য ও সফরসঙ্গী হিসেবে সোনারগাঁওয়ে আগমন করেন।[5]

সোনারগাঁও-এ আগমন
হযরত আবু তাওয়ামাহ (রহ.) বিহারের মানার থেকে হযরত শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরীকে সঙ্গে নিয়ে কখন সোনারগাঁওয়ে আগমন করেন তার সঠিক সময় এখনো নিরূপণ করা যায়নি। এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। প্রত্যেকেই তাদের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছেন। কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় সবগুলো মতামত উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকা হলো। তবে ড. আব্দুল করিম বলেন, “মানকিব-উল-আসফিয়ায় বর্ণিত আছে, শায়খ শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী (রহ.) প্রাপ্তবয়স্ক হলে এবং বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্র সম্পর্কে কিছু বুৎপত্তি অর্জন করার পর তিনি হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ.)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং হযরতের সাথে সোনারগাঁও আগমন করেন। সুতরাং বিনা দ্বিধায় বলা যায়, সোনারগাঁও আগমনের সময় শায়খ শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী (রহ.)-এর বয়স অন্ততপক্ষে ১৫/২০ বছরের কম ছিল না। ১২৬৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জন্ম হলে ১২৭৮/১২৮৩ খ্রিস্টাব্দের আগে তিনি সোনারগাঁওয়ে আসতে পারেন না।”[6]

এছাড়া মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ আরো একাধিক মতামতকে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তার অভিসন্দর্ভে উল্লেখ করেন, ১২৭২ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে ১২৭৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁও মুসলমানদের তথা দিল্লির অধীনেই ছিল। ১২৯১ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে মুসলমানদের হাতে এটি স্থায়িত্ব লাভ করে। কাজেই শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী বালক কিংবা কিশোর বয়সে সোনারগাঁও আগমন করতে হলে ১২৭৮ থেকে ১২৮৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ছাড়া আসা সম্ভব নয়। অতএব বলা যায়, ১২৭৮ থেকে ১২৮৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যেই হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ সোনারগাঁওয়ে আগমন করেন।

কথিত আছে, হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ, হযরত শাহজালাল ইয়ামেনী’র একজন সফরসঙ্গী হিসেবে বিহারে বেশ কিছুকাল অবস্থান করে ইসলাম প্রচারের কাজে নিয়োজিত থাকেন এবং পরবর্তীতে সোনারগাঁওয়ে আগমন করে হযরত শাহজালাল’র সোহবত ও ফয়েজ হাসিল করেন।

 

শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে হযরত আবু তাওয়ামাহ:
হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ:) পরিবার-পরিজন নিয়ে মানার থেকে এসে সোনারগাঁয়ে বসতি স্থাপন করেন এবং দ্বীন প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। এছাড়া এই অঞ্চলের মানুষকে আলোকিত করার লক্ষ্যে তিনি জ্ঞানের জ্যোতি ছড়িয়ে দিতে শিক্ষাদানের প্রতিও বিশেষভাবে নজর দেন। দিনেদিনে মানুষ হযরতের আচার-ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তাঁর প্রতি ঝুঁকতে লাগলেন। হযরতের উত্তম চরিত্রের সুবাস এই অঞ্চলের মানুষের মনেও রেখাপাত করতে শুরু করে এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।

সময়-অসময়ে বহু মানুষ তাঁর কাছে আসতে শুরু করেন। এদের মধ্যে কেউ আসতেন হযরতের সাথে সাক্ষাৎ এবং আনুগত্য প্রকাশ করতে এবং কেউ আসতেন জ্ঞানার্জনের জন্য। এরই প্রেক্ষিতে তিনি এখানে শিষ্যদের জন্য একটি খানকাহ্ (আস্তানা) নির্মাণ করেন এবং ছাত্রদের জন্য একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। হযরতের জ্ঞানের গভীরতা ও পাণ্ডিত্যের সুনাম এতই সুপ্রসারিত হয়েছিল যে, দূরদূরান্ত থেকেও বিপুল সংখ্যক শিষ্য ও শিক্ষার্থী তাঁর কাছে এসে সমবেত হতেন।[7] এই মাদ্রাসা থেকেই শুরু হয় এই বাংলায় প্রথম ইলমুল হাদিসের পাঠদান। আর এরই ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁ পরিণত হয় ধর্ম ও জ্ঞানের একটি আলোকিত কেন্দ্রে।

হযরতের সুদক্ষ পরিচালনার ফলে এখানে (খানকাহ ও মাদ্রাসা) নানা বিষয়ে জ্ঞানের সাধনা চলমান থাকতো। দেশ-বিদেশে হযরতের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় বিদ্বান ও গুণী মানুষজন এখানে আসতেন এবং বিভিন্ন জটিল বিষয়ে পরামর্শ ও উপদেশ গ্রহণ করতেন। তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী, আন্তরিক এবং সহানুভূতিশীল। তিনি সবাইকে সাদরে গ্রহণ করে নিতেন। তার এমন নিপুণ চারিত্রিক গুণাবলির কারণে অনেক সম্ভ্রান্ত বংশের মানুষও তাঁর ভক্তে পরিণত হয়েছেন। কথিত আছে, বহু খ্যাতনামা পণ্ডিত ও সাধক হযরতের সাহচর্যে থেকে আধ্যাত্মিক সাধনায় মগ্ন হয়ে যেতেন।[8]

সেকালে সোনারগাঁয়ে মুসলিম সংস্কৃতি যে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছিল, তার নেপথ্যে হযরত আবু তাওয়ামাহ (রহ:)-এর অবদান অনস্বীকার্য। হযরতের তাসাউফ সাধনা ছিল উচ্চমার্গীয়। তিনি শুধুই একজন পণ্ডিত ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে সুফি, দরবেশ, আলেমে দ্বীন এবং সমাজ সংস্কারক। তাঁর বহুবিধ গুণের সমন্বয়ের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণ তাকে দুইজন প্রখ্যাত দরবেশ শায়খ জালাল উদ্দীন তাবরিজী ও হয়রত শাহ জালাল’র সাথে তুলনা করেন।

এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক ড. এম. এ. রহিম বলেন, প্রাচীন সোনারগাঁয়ে পীর দরবেশদের তাসাউফ সাধনা অনেক উঁচুতে পৌঁছেছিল। তখনকার সোনারগাঁয়ের দরবেশদের মধ্যে শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ ছিলেন অন্যতম। দুইজন প্রখ্যাত দরবেশ উত্তরবঙ্গের (বর্তমান পান্ডুয়া, মালদা, পশ্চিমবঙ্গ) শায়খ জালাল উদ্দীন তাবরিজী ও পূর্ববঙ্গের (বর্তমান সিলেট) হযরত শাহজালাল। এদের মতো মধ্য বাংলা তথা সোনারগাঁয়ে ছিলেন হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ, যিনি সাধনা ও চারিত্রিক মাধুর্যের মাধ্যমে ইসলামের বাণী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রভাব বাংলার বাহিরেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাসাউফ সাধনার পাশাপাশি হাদিস শাস্ত্রেও তিনি বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি অন্যান্য বিদ্যাতেও পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি একাধিক খানকাহ্ প্রতিষ্ঠা করেন এবং গড়ে তোলেন এক বিশাল শিক্ষা নিকেতন (অনেকে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন)। তাঁর খানকায় সর্বশ্রেণির লোকজন যাতায়াত করতেন, দরবেশের কাছে তারা নির্দ্বিধায় আসতেন এবং মনের ব্যথা-বেদনার কথা নিবেদন করতেন। সেকালের সোনারগাঁ প্রকৃতপক্ষেই জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও মুসলিম সমাজ গড়ার কেন্দ্রস্থল রূপে গণ্য হতো।[9]

বাংলাদশে ইসলামী শিক্ষার পথিকৃৎ:

ইসলামের বিভিন্ন শাস্ত্র শিক্ষা দেয়ার জন্য হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ:) একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ইতোপূর্বে এত বড়ো মাদ্রাসা বাংলার কোথাও স্থাপিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক আব্দুর রহিম তার ‘হাদিস সংকলনের ইতিহাস’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ’র মাদ্রাসায় বাংলা ও বাংলার বাহির থেকে বহু শিক্ষার্থী ও সাধক আসেন। ফলে অল্পদিনের মধ্যে সোনারগাঁ ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয়। এ হিসেবে হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ-কে বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষার পথিকৃৎ বলা হয়। এর আগে মাওলানা তকীউদ্দীন আরাবি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু তখন মাদ্রাসা শিক্ষা অতোটা ব্যাপকতা লাভ করেনি। হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ’র প্রচেষ্টার ফলে সোনারগাঁ হাদিস শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়।[10]

প্রাবন্ধিক আব্দুল লতিফ, মুহাম্মদ রুহুল আমীনের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, হযরত বুখারার অধিবাসী ছিলেন বিধায় তিনি সেখান থেকে সহিহ বুখারীর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি নতুন কার্যক্রম প্রণয়ন করে তাঁর মাদ্রাসায় তা শিক্ষা দিতেন। এজন্য জ্ঞানপিপাসুরা তার কাছে জ্ঞানার্জনের জন্য সমবেত হয়েছিলেন। হযরতকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁয়ে বহু হাদিস বিশারদ একত্রিত হয়েছিলেন। সময়ের সাথে সাথে এই অঞ্চলে ইলমুল হাদিস চর্চার প্রসার এতই বেড়েছিল যে, এই উদ্দেশ্যে বহু মসজিদ ও খানকাহ্ নির্মাণ করা হয়। পূর্ব বাংলায় মুসলিম শাসনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত এই গৌরব সমুজ্জ্বল থাকে।[11]

হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ সোনারগাঁয়ের এই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদেরকে ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়েও পাঠদান করতেন যাতে তারা যুগপৎ দুই ধারার জ্ঞানের সাথে নিজেদেরকে সমন্বয় ও সমৃদ্ধ করতে পারেন। তখনকার দিনে আজকের মতো এমন দ্বৈত শিক্ষাব্যবস্থা ছিল না। সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে জাতীয় লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতিটি নাগরিক একই ব্যবস্থায় শিক্ষা লাভ করতেন। এই একই ব্যবস্থা থেকে জ্ঞান অর্জন করে কেউ দ্বীনের খেদমত করতেন, কেউ শিল্প বা সাহিত্য সাধনা করতেন, কেউ হতেন সমাজকর্মী, আইনবিদ, অর্থনীতিবিদ কিংবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার। দেশ এবং দশের সেবায় ব্রত হয়ে রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনই ছিল সবার একমাত্র উদ্দেশ্য।

প্রকৃতপক্ষে, হযরত আবু তাওয়ামাহ ছিলেন সেকালের একজন বড়ো ক্বারী, প্রকৃতি বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং প্রখ্যাত মুহাদ্দিস। হযরতের ইলমের প্রখরতা বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর সুযোগ্য শিষ্য হযরত শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী বলেন, “হযরত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ এমন একজন আলেম ছিলেন, সমগ্র ভারববর্ষের দৃষ্টিই যার প্রতি নিবন্ধ ছিল এবং জ্ঞানের জগতে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না”।[12] হযরত কর্তৃক প্রণীত শিক্ষাব্যবস্থায় দুইটি ভাগ ছিল। একটি ছিল, আল উলুমুল নাকলিয়া তথা ইসলামিক জ্ঞান এবং অপরটি ছিল, আল উলুমুল আকলিয়া তথা যুক্তিবিদ্যা বা জ্ঞান।

 

এই মাদ্রাসা ছিল আবাসিক। শিক্ষার্থীরা আবাসিক ভবনে অবস্থান করে লেখাপড়া করতেন। এ বিষয়ে অধ্যাপক আবদুল করিম লিখেছেন: “সোনারগাঁওয়ের মৌলানা শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার মাদ্রাসা যে আবাসিক ছিল তার প্রমাণ শায়খ শরফুদ্দিন ইয়াহিয়া মানেরির জীবনের একটি ঘটনা থেকে যায়। কথিত আছে যে, মাদ্রাসার সকল ছাত্র শিক্ষক এক‌ই দস্তরখানে বসে খাওয়া দাওয়া করতেন। এতে অনেক সময় ব্যয় হতো। শায়খ শরফুদ্দিন ইয়াহিয়া মানেরি জ্ঞানার্জনের প্রতি এত‌ই মনোযোগী ছিলেন যে, তিনি এইটুকু সময় অপচয় পছন্দ না করে দস্তরখানে খাওয়া ছেড়ে দিলেন। এতে অনেক সময় তাঁকে অভুক্ত থাকতে হতো। তাঁর শিক্ষক শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা একথা জানতে পেরে তাঁর খাবার ভিন্নভাবে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন।”[13]

 

 

 

[1] শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ, শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মুনায়রী ও নুর কুতুবুল আলম (র:) সাধকত্রয়ের জীবন ও কর্মের উপর তুলনামূলক সমীক্ষা: মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০১, ১১৯-১২৩

[2] হযরত আবু তাওয়ামাহ: মফিজ উদ্দীন আহমদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা, ১৯৮৭, ১১

[3] মানাকিবুল আসফিয়া: শাহ শুআয়াব, মাকতুবাতে সাদীতে সংযোজিত

[4] আহমদ, প্রাগুক্ত, ১২-৩

[5] Rahman, S. K. (1939). Shaykh Sharaf-ud-Din Ahmad Yahya of Munayr. The Calcutta Review, 71, 196.

[6] আহমদ, প্রাগুক্ত, ১১৬

[7] লতিফ, প্রাগুক্ত, ১২৩

[8] প্রাগুক্ত, ১২৭

[9] Social and cultural history of Bengal (Vol. 2): Rahim, M. A., Pakistan Historical Society, 1967, 289

[10] হাদিস সংকলনের ইতিহাস: আব্দুর রহিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা, ১৯৭০, ৬৭১

[11] লতিফ, প্রাগুক্ত, ১২৮

[12] ইসলামী রেনেসাঁর অগ্রপথিক: সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী, এ. এস. এম. উমর আলী অনুদিত, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা, ১৯৮৮, ১৪৮

[13] মুসলিম বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য: আবদুল করিম, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৯৯৪, ২৩২