বাংলায় সুফি-কবিদের রচিত কারবালা বিষয়ক পুঁথি-কাব্য: পরিচিতি পর্ব

প্রাক-ঔপনিবেশিক আমলে মুসলমান লেখকদের অধিকাংশ‌ই ছিলেন সুফি ব্যক্তিত্ব। সৈয়দ সুলতান, আলাওল থেকে শুরু করে ফকির গরীবুল্লাহ্— সবার‌ই সুফি সাধনার ইতিহাস রয়েছে। তাঁরাও কারবালা বিষয়ে কাব্য রচনা করেছেন। স্রেফ জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য নয়, বরং সুফিদের আদর্শ ও নৈতিক অনুপ্রেরণার জায়গা থেকেও।

 

প্রাক-ঔপনিবেশিক বাংলা সাহিত্যে যে-সকল বিষয়ে পুঁথি-কাব্য রচিত হয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম প্রধান কারবালা। বাংলায় মুঘল আমলের আগেই কারবালা নিয়ে পুঁথি-কাব্য রচনা শুরু হয়েছে। দৌলত উজির বাহরাম খান, শেখ ফয়জুল্লাহ মুঘল আমলের পূর্বেই এ বিষয়ে লিখেছেন। মুঘল আমলে এ বিষয়ক রচনা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এই ধারাবাহিকতা ঔপনিবেশিক আমলেও জারি ছিল।

 

বাংলার মুসলমান সমাজের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি ছিল পুঁথি-পাঠ। এর মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শরীয়ত, তরিকত ইত্যাদি বিষয়ে মুসলমানরা জ্ঞান অর্জন করতো। পাশাপাশি এটি ছিল তাদের বিনোদনের একটি মাধ্যম। উঠানে আয়োজন করে গোল করে বসে সবাই মিলে পুঁথি শোনার যে অকৃত্রিম অনুভূতি তা তাদের ব্যস্ত জীবনকে সহজ করে দিতো। আর পুঁথি পাঠের অন্যতম জনপ্রিয় বিষয় ছিল কারবালা। প্রধান কারণ, এর বিষয়বস্তু এবং আবেগের প্রাধান্য। ইমাম হোসাইনের শাহাদাত, নবী পরিবারের উপর এজিদদের জুলুম নিয়ে পুঁথি লেখকরা যে দরদ দিয়ে লিখতেন, বিভিন্ন হৃদয়গ্রাহী উদাহরণ দিয়ে সবিস্তারে বর্ণনা করতেন তা শুনে বাংলার মুসলমান হাউমাউ করে কেঁদে উঠতেন, গড়াগড়ি খেতেন। চোখ বেয়ে পানি পড়ছে আর শুনছেন পুঁথির পাঠ— এই দৃশ্য ছিল খুবই স্বাভাবিক। পাঠকদের/শ্রোতাদের আবেগকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করার কারণে কারবালার পুঁথি হয়ে উঠেছিল মুসলমান সমাজের জনপ্রিয় বিষয়।

 

প্রাক-ঔপনিবেশিক আমলে মুসলমান লেখকদের অধিকাংশ‌ই ছিলেন সুফি ব্যক্তিত্ব। সৈয়দ সুলতান, আলাওল থেকে শুরু করে ফকির গরীবুল্লাহ্— সবার‌ই সুফি সাধনার ইতিহাস রয়েছে। তাঁরাও কারবালা বিষয়ে কাব্য রচনা করেছেন। স্রেফ জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য নয়, বরং সুফিদের আদর্শ ও নৈতিক অনুপ্রেরণার জায়গা থেকেও। আহলে বাইত তথা নবীবংশ সুফি আদর্শ ও আধ্যাত্মিকতার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। পৃথিবী বিখ্যাত বহু সুফি নবীবংশের সদস্য ছিলেন। বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী মা ও বাবা উভয়দিক থেকেই নবীবংশের সদস্য ছিলেন; উপমহাদেশের সর্বোচ্চ মান্য ও জনপ্রিয় সুফি ব্যক্তিত্ব খাজা গরীবে নেওয়াজ কারবালা ও ইমাম হোসাইন নিয়ে ঐতিহাসিক কাব্য রচনা করেছেন। ফলত, সুফি আদর্শে, ঐতিহ্যে কারবালা ও আহলে বাইতের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত। বাংলার সুফি কবিরা তাই কারবালা বিষয়ক কাব্য রচনা করে আদর্শ প্রচার এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাহিদা একত্রে পূরণের চেষ্টা করেছেন। বাংলার মুসলমান যেভাবে কারবালার মর্মান্তিক কাহিনী শুনে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেছে তেমনি জুলুম, মিথ্যার বিরুদ্ধে ইমাম হোসাইনের যে সংগ্রাম, আত্মত্যাগ তার‌ও দরস নিয়েছেন। এতে নৈতিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিও মজবুত হয়েছে।

***

 

মহররম নিয়ে বাংলা ভাষায় রচিত সর্ববৃহৎ কলেবরের পুঁথি ‘মক্তুল হোসেন’। পুঁথির লেখক কবি মুহম্মদ খান। এই কাব্যের ব্যাপকতা বোঝা যাবে মুহম্মদ এনামুল হকের এই মন্তব্যে: “এই কাব্যখানিকে কাশীরাম দাসের বাংলা মহাভারতের (রচনা ১৬৪৫ খ্রিস্টাব্দ) প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে কবি মুহম্মদ খান খাড়া করিয়াছিলেন বলিয়া মনে হ‌ইতেছে। ইহার পরিকল্পনা একেবারেই মহাভারতের অনুরূপ।”[1]

তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার অন্তর্গত জোবরা গ্রামের অধিবাসী। তিনি প্রাক-ঔপনিবেশিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান কবি সৈয়দ সুলতানের মুরিদ ছিলেন। এ বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই। বাংলায় কারবালা বিষয়ক সাহিত্যের আদি-বিশেষজ্ঞ ডক্টর গোলাম সাকলায়েন বলেছেন, “পীরপরম্পরার স্তুতির ক্ষেত্রে কবি অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে যাঁহার নাম বারংবার উল্লেখ করিয়াছেন, তিনি ‘নবীবংশ’ প্রণেতা সৈয়দ সুলতান। কবি সৈয়দ সুলতান মুহম্মদ খানের কাব্য ও আধ্যাত্মিক সাধনার মুর্শিদ ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে সৈয়দ সুলতানের শহীদ মুহম্মদ খানের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ।”[2]

কবি মুহম্মদ খানের ‘মক্তুল হোসেন’ পুঁথির একটি লিপির চিত্র। (ছবি: সংগৃহীত)

 

পীর সৈয়দ সুলতানের বিশেষ নির্দেশেই তিনি এই বৃহৎ কাব্যের আয়োজন করেছেন। যেমনটি বলেছেন:

“অবশ্য মোহোরে সবে দিবে আশীর্বাদ।

মহাজন আশীর্বাদ খণ্ডিব প্রমাদ॥

বিশেষ পীরের আজ্ঞা ন যায় লংঘন।

রচিলুং পঞ্চালিকা তাহার কারণ॥”[3]

 

সৈয়দ সুলতানের নবী-বংশ যেমন আকরগ্রন্থ, তাঁর শিষ্য মুহম্মদ খানের মক্তুল হোসেন‌ও কারবালা বিষয়ক কাব্য হিসেবে অদ্বিতীয়। এটি বাংলা সাহিত্যে যেমন গুরু তেমন শিষ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। কারবালার এই কাব্য একসময় বাংলায়, বিশেষত চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে পাঠ করা হতো।‌ এখনো যে-সকল জায়গায় পুঁথি পড়ার চল আছে সেখানে ‘মক্তুল হোসেন‌’ বিশেষভাবে সমাদৃত।

 

উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত সুফি কবি হেয়াত মামুদ মুঘল আমলের শেষদিকে জীবিত ছিলেন। সুকুমার সেন বলেছেন, “রচনাবাহুল্যে হেয়াৎ মামুদ উত্তরবঙ্গের পুরানো কবিদের মধ্যে প্রধান।”[4]

কবি হেয়াৎ মামুদ কবির পাশাপাশি উচ্চস্তরের সাধক ও পীর ছিলেন। তিনি কাদেরিয়া তরিকার সাধক ছিলেন। তিনি একাধিক কাব্যে নিজেকে ‘কাদিরের দাস’ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন। রংপুরে কবি হেয়াত মামুদের মাজার এখন সারাবছর‌ই ভক্তবৃন্দের যাতায়াতে মুখরিত থাকে। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর মাজারে ওরস শরীফ উদযাপিত হয়।[5]

 

কারবালা বিষয়ক কাব্য রচনার মাধ্যমেই তাঁর কবি-জীবনের সূচনা হয়। ১৭২৩ সালে তিনি ‘জঙ্গনামা’ কাব্য রচনা করেন। কবি কারবালা বিষয়ে তৎকালীন বাংলার মুসলমান সমাজে যত ভ্রান্ত ধারণা আছে সেগুলো দূর করে সঠিক ধারণা দেয়ার জন্য এই কাব্য রচনা করেন। তিনি লিখেছেন:

পড়িনু শুনিনু ভাই আরবী ফারসী।

ইমামের কথা শুনি দুঃখ মনে বাসী॥

যতেক শুনিনু মুঞি পুস্তক বয়াতে।

কথো আছে কথো নাহি কিতাবের মতে৷৷

নাহি জানে আদ্যকথা নাহি পায় তত্ত্ব।

পচাল পাড়িয়া মিথ্যা ফিরয়ে সতত॥

তাহা শুনি মনে মোর দ্বিধা সর্বক্ষণ।

রচিনু পুস্তক তবে জানিতে কারণ॥[6]

 

এই কাব্যের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গোলাম সাকলায়েন লিখেছেন, “বাংলা মর্সীয়া সাহিত্যের ধারায় মুহম্মদ খানের ‘মকতুল হুসেন’ কাব্যের পরে হায়াৎ মামুদের ‘জঙ্গনামা’ পূর্ণকাব্য। এ-কাব্যের একটি বৈশিষ্ট্য প্রতিপর্বের প্রারম্ভে এক একটি ধুয়ার সংযোজন।”[7]

 

মুঘল আমলের শেষদিকে কবি হামিদ রচনা করেছেন ‘সংগ্রাম হুসন’। ১৭৪০ সালে এই কাব্যের যে অনুলিপি তৈরি হয়েছিল সে পাণ্ডুলিপি বাংলা একাডেমিতে সংরক্ষিত রয়েছে। কারবালার ময়দানে ইমাম হোসাইনের সংগ্রাম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উল্লেখ করা এই কাব্যের বৈশিষ্ট্য। গোলাম সাকলায়েনের ভাষ্য: “মধ্যযুগের বাংলা মর্সীয়া সাহিত্যে মুহম্মদ খান, হায়াৎ মামুদ প্রমুখ কবির ন্যায় কবি হামিদের রচনাও যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তৎরচিত ‘সংগ্রাম হুসন’ কাব্যখানি পাঠের পর এ-সম্পর্কে কোন সন্দেহ থাকে না।”[8] কবি হামিদের পীর ছিলেন শাহ তামাস (সাহা তামাছ)। কবির পীরের বিস্তারিত জানা যায় না কিন্তু তিনি বারংবার পীরের নাম উল্লেখ করেছেন। যেমন:

সাহা তামাছের চরণ প্রসাদে।

তাহান আজ্ঞায় তবে কহ‌এ হামিদে॥

***

সাহা তামাছের পায়ের রেণু মাথে লৈ‌আ।

সংগ্রাম হুসন কৈলু তান আজ্ঞা পাইয়া॥

***

সাহা তামাছের চরণ বন্দি অতিশ‌এ।

বিনয় করিয়া হেন হামিদে কহ‌এ॥

তান আজ্ঞা পাইয়া তান চরণ প্রসাদে।

সংগ্রাম হুসন নাম মধুর শবদে॥[9]

 

উল্লেখিত পঙক্তি থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, পীর শাহ তামাসের নির্দেশে কবি হামিদ রচনা করেন ‘সংগ্রাম হুসন’। দুঃখজনক বিষয় হলো, কবি হামিদ ও তাঁর পীরের বিষয়ে বিশদভাবে জানা যায় না।

 

ঔপনিবেশিক আমলে কারবালা নিয়ে যত পুঁথি-কাব্য রচিত রয়েছে তন্মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফকির গরীবুল্লাহ শাহ্’র ‘জঙ্গনামা’। ঔপনিবেশিক আমলে মহররম মাস আসলেই বাংলার ঘরে ঘরে এই পুঁথি পাঠ করা হতো। বর্ধমান জেলার হাফিযপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা গরীবুল্লাহ ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনায় সমর্পিত ব্যক্তিত্ব। যে কারণে নামের সঙ্গে তিনি ‘ফকির’ যুক্ত করেছেন। তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামযা তাঁর নাম উল্লেখের পূর্বে ‘র‌ওশন দেল’ ‘আল্লার মকবুল’ অভিধা ব্যবহার করেছেন।

“আল্লার মকবুল শাহা গরীবুল্লা নাম।

বলিয়া হাফেজপুর যাহার মোকাম॥

আছিল র‌ওশন দেল শায়েরি জবান।

যাহাকে মদদ গাজী শাহা বড় খান॥”[10]

এই অভিধা থেকেও তাঁর গভীর আধ্যাত্মিক সাধনার ব্যাপারে ধারণা করা যায়।

তাঁর ‘জঙ্গনামা’ বিষয়ে অধ্যাপক গোলাম সাকলায়েন লিখেছেন, “মুসলমানী বাংলায় রচিত মর্সীয়া সাহিত্যের প্রথম সায়ের হিসাবে শাহ্ গরীবুল্লাহ্ ‘জঙ্গনামা’ কাব্যে যে ভাব, ভাষা, কবি-কল্পনা ও বর্ণনা-নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়াছেন তাহা প্রশংসনীয়।”[11]

 

সুফি কবিদের জন্য কারবালা বিষয়ক কাব্য রচনা অস্বাভাবিক কোনো বিষয় ছিল না। ধর্মীয় বিষয়াদির মধ্যে কারবালা, আশুরা, ইমাম হোসাইন, নবীবংশ ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। কেবল জনপ্রিয় বিধায় কাব্য রচনা করেছেন তাও নয়, গুরুত্বের দিক থেকেও এই বিষয়‌ ছিল অগ্রভাগে। বাংলার মুসলমানদের কাছে ইমাম হোসাইন, কারবালা ইসলামের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি অতি-আবেগের‌ও বিষয়। আর সুফিদের যে আদর্শ, ঐতিহ্য ও রীতিনীতি তাতে কারবালা ও ইমাম হোসাইন সবসময়ই গুরুত্ববহ ও প্রাসঙ্গিক। নিজেদের ধর্মীয় আদর্শ, নৈতিক অনুপ্রেরণা ও মুসলমানদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাহিদার মিশেলে কারবালা নিয়ে পুঁথি-কাব্য রচনা করা এ-সকল সুফি কবিদের জন্য অবশ্যই গৌরবের বিষয় ছিল।

 

কারবালা বিষয়ে উপরোক্ত চারজন কবির পুঁথি-কাব্য ছাড়াও আরো অনেক সুফি কবির রচনা সম্ভব যার হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। যে ৪টি পুঁথি সাহিত্যের বিষয়ে উল্লেখ করা হলো তন্মধ্যে তিনটিই বাংলার মুসলমান সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাংলার মুসলমানদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণে উক্ত পুঁথি সাহিত্যের মৌলিক ভূমিকা রয়েছে। সুফিগণ যে কেবল ধর্মপ্রচার‌ই করেননি, সাথে সাথে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি তৈরিতেও নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছেন তার একটি নিদর্শন হিসেবে পুঁথি-কাব্য রচনার বিষয়টি পেশ করা যেতে পারে।

১. মুসলিম বাংলা-সাহিত্য: মুহম্মদ এনামুল হক, পাকিস্তান পাবলিকেশান্স, তৃতীয় সংস্করণ ১৯৬৮, ১৮৯

২. বাংলায় মার্সীয়া সাহিত্য: গোলাম সাকলায়েন, পাকিস্তান বুক করপোরেশন, ঢাকা, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৬৯, ১৮২

৩. প্রাগুক্ত

৪. কবি হেয়াত মামুদ: মযহারুল ইসলাম, আগামী প্রকাশনী, ঢাকা, ২০০০, ভূমিকা-পাঠ

৫. প্রাগুক্ত, ৩৬-৭

৬. সাকলায়েন, প্রাগুক্ত, ১৯১

৭. প্রাগুক্ত, ১৯২

৮. প্রাগুক্ত, ১৯৪

৯. প্রাগুক্ত, ১৯৫

১০. প্রাগুক্ত, ২০০-১

১১. প্রাগুক্ত, ৩৮৮