সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবু সাঈদ
পেপারওয়ার্ক: মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম
ফিল্ডওয়ার্ক: আবু হাসান মোহাম্মদ মুখতার
ভূমিকা
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ। এই বিভাগ ১৯৮৪ সালে গঠিত হয় এবং বর্তমানে ১৩টি জেলা নিয়ে গঠিত: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জ। ভৌগোলিকভাবে, বিভাগটি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এবং ব্রহ্মপুত্র নদীসমূহ দিয়ে ঘেরা। এগুলো এই অঞ্চলের উর্বরতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছে। এর আয়তন প্রায় ২০,৫৯৪ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি (২০২২ সালের আদমশুমারি অনুসারে), বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫%।
ঐতিহাসিকভাবে, ঢাকা বিভাগ মুঘল যুগ থেকে (১৬শ শতাব্দী) বাংলার রাজধানী হিসেবে পরিচিত, যেখানে সোনারগাঁও, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের মতো এলাকায় সুফি সাধকদের প্রভাব অদ্যাবধি বিরাজমান। সুফি ঐতিহ্য এখানে গভীরভাবে প্রোথিত। যেমন মিরপুরের শাহ আলী বাগদাদী, নারায়ণগঞ্জের শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা এবং অন্যান্য আউলিয়াদের মাজারসমূহ এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের অংশ। অর্থনৈতিকভাবে, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি— ঢাকা শহর দেশের জিডিপির ৩৫% অবদান রাখে, যেখানে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, ব্যাংকিং, আইটি এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রসমূহের অবস্থান। সাংস্কৃতিকভাবে, এখানে লোকসংস্কৃতি, বাউল গান, সুফি মাহফিল এবং মাজার সংস্কৃতি (যেমন: ওরস, মেলা) প্রচলিত। এসব বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ইসলামী ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ধর্মীয় উগ্রতা এই ঐতিহ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে, যার প্রমাণ মাজার হামলাসমূহ। ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট থেকে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে মাজার, দরগাহ সর্বোপরি মাজার সংস্কৃতির উপর ধারাবাহিক ও সঙ্ঘবদ্ধভাবে আক্রমণ পরিচালিত হয়। এর অংশ হিসেবে ঢাকা বিভাগে ৫০টি হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে।
ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট থেকে নভেম্বর-২০২৫ পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে প্রতিবেদনটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ব্যবহৃত সকল তথ্যের যথাযথ সূত্র প্রদান করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে ঢাকা বিভাগে মাজারে হামলা সংক্রান্ত যত ঘটনা সংগঠিত হয়েছে প্রায় সকল ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনার সার্বিক চিত্র, কারণ, ভিডিও ফুটেজ, প্রশাসন, মাজার কর্তৃপক্ষ, মাজারের সর্বশেষ অবস্থান ইত্যাদি সকল বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি ‘তদন্ত প্রতিবেদন’ নয়। ঢাকা বিভাগে মাজারে হামলার সার্বিক চিত্র, হামলার শিকার মাজারগুলোর বর্তমান অবস্থা ও বিভিন্ন পরিসংখ্যান হাজির করাই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। উদ্দেশ্য হলো, এর মাধ্যমে সরকার, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা। পাশাপাশি, দেশের সরকার, মিডিয়া সর্বোপরি জনসাধারণের নিকট মাজার হামলার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা।
প্রতিবেদনে সংখ্যা, পরিসংখ্যান, শব্দচয়ন ও বানানের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তবুও অসতর্কতাবশত কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা পাঠকের চোখে পড়লে আমাদেরকে জানানোর সাথে সাথে সংশোধনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
উৎসসমূহ (Sources)
এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। যেমন:
- সংবাদপত্রের রিপোর্ট ও প্রতিবেদন: প্রধান সংবাদমাধ্যম যেমন The Daily Star (যেমন ‘Silence of the shrines’, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫), TBS News (যেমন ‘44 attacks on 40 shrines’, ১৮ জানুয়ারি ২০২৫), এবং Prothom Alo ইত্যাদি জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা থেকে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা, হতাহতের পরিসংখ্যান এবং প্রশাসনিক অবস্থান সংগ্রহ করা হয়েছে।
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া তালিকা ও মন্তব্য পোস্ট): ফেসবুক এবং ইউটিউবে ছড়ানো পোস্ট, তালিকা এবং মন্তব্য থেকে স্থানীয় প্রতিক্রিয়া, হামলার চেষ্টা এবং প্রোপাগান্ডা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলোতে ‘তৌহিদী জনতা’ গোষ্ঠীর সংগঠিত হওয়া, স্লোগান এবং মব গঠনের ডকুমেন্টেশন রয়েছে।
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও লাইভ: ফেসবুক এবং ইউটিউবে লাইভ ভিডিও এবং ক্লিপস (যেমন হামলার সময়কার ফুটেজ, মাইকিং করে মব গঠন) থেকে ঘটনার রিয়েল-টাইম প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিছু ভিডিও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
- সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রকাশিত ভিডিও সংবাদ: টেলিভিশন এবং অনলাইন নিউজ চ্যানেল যেমন যমুনা টেলিভিশন, NTV এবং bdnews24.com-এর ভিডিও রিপোর্ট থেকে ঘটনার দৃশ্যমান প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করা হয়েছে।
- মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন: বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন থেকে সিস্টেম্যাটিক অ্যাটাক, হতাহত এবং সাম্প্রদায়িক যোগসূত্রের বিশ্লেষণ সংগ্রহ করা হয়েছে। (যেমন: এমএসএফ ইত্যাদি)
- ফিল্ড ওয়ার্ক ও সরেজমিন যাচাই: মাকাম’র প্রতিনিধিরা হামলার শিকার কুমিল্লা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাজার পরিদর্শন করে সরেজমিনে ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করেছেন। এতে খাদেম, ভক্ত এবং স্থানীয়দের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। এগুলো ঘটনার প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ প্রমাণ এবং হামলার শিকার মাজারের বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।
প্রতিবেদনে ব্যবহৃত নিউজ, প্রতিবেদন, ভিডিও ও ফিল্ডওয়ার্ক থেকে প্রাপ্ত ডকুমেন্ট আর্কাইভ করা আছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত যে কোনো প্রকার তথ্যের পর্যাপ্ত প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ চাহিবামাত্র নির্দিষ্ট তথ্য-সংক্রান্ত ডকুমেন্ট প্রদান করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
সারাংশ
ঢাকা বিভাগে ২০২৪-২০২৫ সালে মাজার-সংক্রান্ত হামলা ও সম্পর্কিত ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর অবধি চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। জেলাভিত্তিক বিবরণে দেখা যায়: নরসিংদীতে ১১টি, ঢাকায় ৯টি, নায়ারণগঞ্জে ৫টি, কিশোরগঞ্জ ৩টি, শরিয়তপুরে ২টি, মানিকগঞ্জ ৩টি, গাজীপুর ২টি, এবং রাজবাড়ী, টাঙ্গাইলে ১টি করে- মোট ৩৭টি হামলার ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। পাশপাশি এমন ১৩টি খবর পাওয়া গিয়েছে যার মধ্যে ১টি গুজব, ১টি হামলার হুমকি ও ১১টির বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, প্রমাণিত ঘটনা ৩৭টি এবং অপ্রমাণিত, হুমকি ও গুজব ১৩টি, মোট ৫০টি।
হামলাগুলোর প্রধান কারণ ধর্মীয় মতাদর্শগত বিরোধ (যেমন: মাজারকে ‘শিরক-বিদআত’ আখ্যা দিয়ে হামলার পটভূমি তৈরি ও বৈধতা উৎপাদন), রাজনৈতিক প্রতিহিংসা (যেমন: আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতা), সামাজিক অসন্তোষ (যেমন: মাদক সেবন বা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ) এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধ। উদাহরণস্বরূপ: ঢাকা, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের ঘটনাগুলোতে ‘তৌহিদী জনতা’ ব্যানারে সংগঠিত হামলায় ওরস, মেলা বা সুফি সমাজের অনুষ্ঠানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে, যাকে স্থানীয় যুবকদের চারিত্রিক স্থলনের কারণ হিসেবে অভিযোগের মাধ্যমে ন্যায্যতা দেয়া হয়েছে। প্রভাবের দিক থেকে, মাজারগুলোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (ওরস, মেলা, মিলাদ) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে হামলাকারীরা স্থানীয় এলাকার বহিরাগত (যেমন: জামায়াতপন্থী, চরমোনাইপন্থী বা কওমী মাদ্রাসার ছাত্র)। এছাড়া, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা স্পষ্ট: বেশিরভাগ ঘটনায় কোনো মামলা, গ্রেফতার বা তদন্তের অগ্রগতি নেই, যা হামলাকারীদেরকে প্রকারান্তরে উৎসাহিত করেছে। কেবল ৬টি ক্ষেত্রে (যেমন: রাজবাড়ীর নুরাল পাগলার দরবার শরিফ, নরসিংদির হকসাব শাহের মাজার, ঢাকার শুক্কুর আলী শাহ ও বুচাই পাগলার মাজারসহ ইত্যাদি) প্রশাসন সক্রিয়তা প্রদর্শন করেছে, যেখানে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হামলার পর অদ্যাবধি অন্তত ১৮টি মাজার পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অন্তত ১৫টি মাজারের বাৎসরিক উরসের আয়োজন বন্ধ রয়েছে। এ-সকল হামলায় নারীসহ অন্তত ১৮০জন+ আহত ও ২জন নিহত হয়েছে। হামলার সময় মাজার সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪টি মসজিদেও হামলা করা হয়েছে।
সময়কালীনভাবে, ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ঘটনার ৭০% এর বেশি কেন্দ্রীভূত ছিল, এসব ঘটনা মোটাদাগে রাজনৈতিক অস্থিরতা (প্রশাসনিক শূন্যতা এবং আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা) থেকে উদ্ভূত। ২০২৫ সালে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ওরস বা মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হামলা পুনরায় বৃদ্ধি পায়।
পরিসংখ্যান
সারাদেশে যত মাজারে হামলার সকল ঘটনা ঘটেছে (কম-বেশি ১৫০ হিসেবে) তন্মধ্যে এক তৃতীয়াংশ (৩৩%) ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগের সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীতে, ১১টি। দ্বিতীয় বেশি সংখ্যক ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়, ৯টি। প্রধান কারণসমূহ: ধর্মীয় অভিযোগ (বিদআত-শিরক, ৬৫%), স্থানীয় বিরোধ (মাদক-জমি, ১৫%) এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা (২০%)। হামলাকারী হিসেবে ‘তৌহিদী জনতা’র নেতৃত্বই প্রধান (৯০%)। হামলার ঘটনায় প্রশাসনের সক্রিয়তা ২০%; নিষ্ক্রিয়তা ৮০%।
হামলায় আক্রান্ত মাজারসমূহের তালিকা
নিম্নে হামলার শিকার মাজারসমূহের তালিকা প্রদান করা হয়েছে। তালিকাটি দু’টি ছকে বিভক্ত। ১ম ছকে যে সকল মাজারে হামলার ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। ২য় ছকে সে-সকল মাজার যেগুলোতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে কিন্তু প্রমাণিত হয়নি, হুমকি প্রদান করা হয়েছে, হামলার ব্যর্থ চেষ্টা ও হামলার গুজবের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
ছক: ০১
| সংখ্যা | মাজারের নাম | সময় | স্থান | ক্ষয়ক্ষতি ও মন্তব্য |
| ১ | কোপ্পা/কফা পাগলার মাজার | ৫ই আগস্ট ২০২৪ | নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পারুলিয়ায় অবস্থিত | উগ্রবাদী, জামাতপন্থী কিছু মানুষ এবং তৌহিদি জনতা নামে পরিচিত গ্রুপ কর্তৃক হামলা |
| ২ | শাহ সুফি সৈয়দ রেজা সারোয়ার রাজাজীর মাজার | ৫ই আগস্ট ২০২৪ | নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কালনি এলাকায় | ৫ই আগস্ট পূর্ববর্তী সময়েও একাধিকবার আক্রান্ত |
| ৩ | বোরহান উদ্দিন বৈরাম শাহের মাজার | ৫ আগস্ট, ২০২৪ | ঢাকার তেজগাঁও কলোনি বাজার এলাকায় অবস্থিত | বর্তমানে মাজারটি এককক্ষে সীমাবদ্ধ। |
| ৪ | দেওয়ান শরীফ খানের মাজার/ পারুলিয়া দরবার শরিফ | ৫ই আগস্ট ২০২৪ রাতে | নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় অবস্থিত | প্রায় ৪লক্ষ টাকার মালামাল ধ্বংস ও সিন্দুক অপহরণ। |
| ৫ | শাহ সুফি হযরত হকসাব শাহ (হক পাগলা) মাজার | ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে | নরসিংদী জেলার দড়ীনবিপুর গ্রামে | |
| ৬ | হজরত হায়দার আলী ইয়ামেনী মাজার | ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট | ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় অবস্থিত | |
| ৭ | হজরত শাহ সুফি মেহেরুল্লাহ শাহ ওরফে শাহ ভালার দরবার শরিফ | ৬-৭ই আগস্ট রাতে | চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কোষাঘাটায় মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত | ৩০০ বছর পুরোনো মাজার। |
| ৮ | আয়না দরগাহ মাজার | ২৫ই আগস্ট ২০২৪ রবিবার বিকেলে, | নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের পশ্চিম সনমান্দি গ্রামে | |
| ৯ | দেওয়ানবাগী পীরের আস্তানা
|
৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ ভোরে | নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর, দেওয়ান মনোহর খাঁর বাগ এলাকায় | ৪ জন আহত ও আশেপাশের টিনের ঘরে অগ্নিসংযোগ |
| ১০ | হজরত হোসেন আলী শাহের মাজার, লেংটার মাজার
|
১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে | নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল ১১ নম্বর সেক্টরে | ২০০-৩০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র দ্বারা হামলা |
| ১১ | উদাম শাহ মাজার | ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ | নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলায়) | |
| ১২ | বুচাই পাগলার মাজার | ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে | ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় কালামপুর- সাটুরিয়া আঞ্চলিক সড়কের পাশে | |
| ১৩ | আলীম উদ্দিন চিশতিয়া (রঃ) | ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে, | নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা বাজারের কাছে পোনাবো এলাকায় | |
| ১৪ | শাহ সূফি ফসিহ পাগলার মাজার
|
২০২৪ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে, | গাজীপুর মহানগরের পোড়াবাড়ি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে | ৮-১০ জন আহত ও ৮টি ঘর পোড়া ও মালামাল লুটপাট |
| ১৫ | ফকির করিম শাহ মাজার/ আরশেদ পাগলার মাজার | ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ শুক্রবার জুমার নামাজের পর | শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মেহের আলী মাদবরকান্দি গ্রামে | |
| ১৬ | সৈয়দ আবু মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হামিদ (রহ.) মাজার (গাউছিয়া দরবার শরীফ) | ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ সোমবার | কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের প্রথাবনাথ বাজার সংলগ্ন | ১ জন নিহত, ৫০ জন আহত। |
| ১৭ | মাওলানা আফসার উদ্দিনের মাজার | ২৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাত সাড়ে ১১টা থেকে দুই ঘণ্টার | সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের চাকলিয়া এলাকায় | ২০+ আহত। |
| ১৮ | বরকত মা মাজার | ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর | ঢাকার ধামরাই উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় | |
| ১৯ | মজিদিয়া দরবার শরিফ (শালু শাহ মাজার) | ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে | শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের পোড়াগাছা গ্রামে | |
| ২০ | হজরত হাজী খাজা শাহবাজ (রাহ.) মাজার-মসজিদ | ৫ই নভেম্বর ২০২৪ মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা | ঢাকার দোয়েল চত্বর সংলগ্ন (বাংলা একাডেমির বিপরীত পার্শ্বে | ৪-৫ জন আহত। মহিলাসহ |
| ২১ | বেলাল পীরের মাজার | ২২ই নভেম্বর ২০২৫ তারিখে | টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরপৌলী এলাকায় | |
| ২২ | হযরত খেতা শাহ (ওরফে আইয়ুব আলী) মাজার | ২০২৫ সালের ২৩ই জানুয়ারি | নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের শ্রীনগর রসুলপুর কান্দাপাড়া এলাকায় | পূর্ব প্রচারণা ও পোস্টার বিলি করে মাজার হামলা। |
| ২৩ | মোহাম্মদ আলী মুন্সীর কবর | ২৪ই জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে | নরসিংদী জেলার চম্পকনগর গ্রামে | |
| ২৪ | শাহ সুফি হযরত ফজলু শাহের মাজার | ২৪ই জানুয়ারি ২০২৫ | নরসিংদী জেলার কালাইগোবিন্দপুর গ্রাম | |
| ২৫ | কুতুববাগ দরবার শরিফ | ২০২৫ সালের ২৭ই জানুয়ারি | ঢাকার তেজগাঁওয়ে ফার্মগেটের ৩৪ ইন্দিরা রোডে | ওরস ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত। |
| ২৬ | শুক্কুর আলী শাহ ফকিরের মাজার | জানুয়ারি ২০২৫ (বৃহস্পতিবার) রাতে | ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুন নালাই গ্রামে | |
| ২৭ | ফকির মওলা দরবার শরিফ | ২০২৫ সালের ২১ই ফেব্রুয়ারি | মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার আজিমপুরে | ৭-১২ জনকে গ্রেপ্তার ও পরে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি |
| ২৮ | গাউছে হক দরবার শরীফ
|
৩১ই মার্চ ২০২৫ এর রাতে | নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় অবস্থিত | |
| ২৯ | নুরাল পাগলার দরবার শরিফ
|
৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ জুমার নামাজের পর | রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার জুড়ান মোল্লাপাড়া এলাকায় | কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলা |
| ৩০ | পাঁচ পীরের মাজার | ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে | ইটনা উপজেলার (কিশোরগঞ্জ জেলা) | |
| ৩১ | বিগচান আল জাহাঙ্গীরের মাজার | ১৭ই আগস্ট ২০২৪ | ঢালুয়ার চর, পলাশ, নরসিংদী | মূলত কবরস্থানের পাশে একটি পাকা কবর; মাজার মনে করে ভাঙচুর হয়। |
| ৩২ | আয়নাল শাহ মাজার | ৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ | খোটমোড়া, গোতাশিয়া, মনোহরদী, নরসিংদী | বিস্তারিত তথ্য নেই। |
| ৩৩ | ওয়াইসিয়া/উয়ায়েসি দরবার শরীফ | ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ঘিওর, মানিকগঞ্জ | একটি ভিডিওতে মাজারের গ্লাস জানালা ও অভ্যন্তর ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যায়। |
| ৩৪ | মা জটালীর মাজার | ২০২৪ এর সেপ্টেম্বর মাসে | বাংলা একাডেমি এলাকা, ঢাকা | হামলা ও ভাংচুর |
| ৩৫ | ওয়ারিশ পাগলার মাজার | ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে | দড়িগাঁও গ্রাম, সালুয়া ইউনিয়ন, কিশোরগঞ্জ | ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। |
| ৩৬ | শ্রীপুরের হেরাবন পাক দরবার শরীফ | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ দুপুরে | শ্রীপুর, গাজীপুর | পীর সাহেবকে মারধর |
| ৩৭ | খাজা শাহ সুফি দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতি নিজামি (রা.) দরবার শরীফ | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাতে | মানিকগঞ্জ | ওরস চলাকালে হামলা |
ছক: ০২
| হামলার অভিযোগ/ চেষ্টা/ গুজব এমন ঘটনার তালিকা | ||||
| সংখ্যা | মাজারের নাম | সময় | স্থান | ক্ষয়ক্ষতি ও মন্তব্য |
| ৩৮ | গোলাপ শাহ মাজার | ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ঢাকার গুলিস্তানে অবস্থিত | হামলার হুমকি। |
| ৩৯ | আকবর পাগলার মাজার | ৫ আগস্ট ২০২৪ | নরসিংদী | স্রেফ অভিযোগ, বিস্তারিত তথ্য নেই। |
| ৪০ | আয়েজ পাগলার মাজার | ৫ আগস্ট ২০২৪ | নরসিংদী | |
| ৪১ | শাহসূফি চানমিয়া দরবার শরীফ | ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরপর | নয়াপাড়া, গাজীপুর | |
| ৪২ | ফকির মার্কেট মাজার | ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরপর | গাজীপুর | |
| ৪৩ | জাবের পাগলার মাজার | ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরপর | গাজীপুর | |
| ৪৪ | হাসেন আলী ফকিরের মাজার | ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরপর | বেলাব, নরসিংদী | |
| ৪৫ | করমদী ফকিরের মাজার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ভাওয়াল মির্জাপুর বাজার, গাজীপুর | ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ। |
| ৪৬ | আক্কেল আলী শাহের মাজার | সেপ্টেম্বর ২০২৪ | রায়পুরা, নরসিংদী | স্রেফ অভিযোগ, তথ্য নেই। |
| ৪৭ | আমিনুল হক পাগলার মাজার/আস্তানা | ২৩ নভেম্বর ২০২৪ | দিলালপুর, নরসিংদী | আস্তানা উচ্ছেদ |
| ৪৮ | হানিফ শাহ মাজার
|
২৪ জানুয়ারি ২০২৫ | খোটমোড়া, গোতাশিয়া, মনোহরদী, নরসিংদী | স্রেফ অভিযোগ, তথ্য নেই। |
| ৪৯ | শাহ সুফি হযরত আইয়ুব আলী শাহের আস্তানা | ২৪ই জানুয়ারি ২০২৫ | শ্রীনগর গ্রাম, নরসিংদী | স্রেফ অভিযোগ, তথ্য নেই। |
| ৫০ | হজরত হায়দার শাহ বাবার মাজার | মুহাম্মদপুর, ঢাকা | হামলার গুজব | |
ঢাকা বিভাগে সংগঠিত প্রমাণিত ৩৭টি ঘটনার জেলাভিত্তিক সংখ্যা:
| জেলা | সংখ্যা |
| নরসিংদী | ১১ |
| ঢাকা | ০৯ |
| নারায়ণগঞ্জ | ০৫ |
| কিশোরগঞ্জ | ০২ |
| শরিয়তপুর | ০৩ |
| মানিকগঞ্জ | ০৩ |
| গাজীপুর | ০২ |
| রাজবাড়ী | ০১ |
| টাঙ্গাইল | ০১ |
| ফরিদপুর | ০০ |
| মাদারিপুর | ০০ |
| মুন্সিগঞ্জ | ০০ |
| গোপালগঞ্জ | ০০ |
বিস্তারিত পুরো প্রতিবেদনটি পড়তে প্রতিবেদনের পিডিএফ লিঙ্ক যুক্ত করা হলো। ডাউনলোড করে পুরো প্রতিবেদনটি দেখতে পারবেন।